সড়ক দুর্ঘটনা

সড়ক দুর্ঘটনা

সড়ক দুর্ঘটনা
সড়ক দুর্ঘটনা

আজকাল বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি নিত্যনৈমিতিক ব্যাপার।  শহরে নগরীর সংখ্যা বাড়ছে তো বাড়ছেই। ফুলে দুর্ঘটনার সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন।  প্রতিদিনের সংবাদপত্রের সড়ক দুর্ঘটনার খবর এখন আর অপ্রত্যাশিত ব্যাপার নয়।  প্রতিদিনের খবরের মধ্যে এটা একটি সাধারণ খবর। বর্তমানে চাকুরীজীবী, ছাত্র-ছাত্রী কিংবা বিভিন্ন পেশার নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ নির্ধারিত সময়ে বাসায় না ফিরলে বা গন্তব্যস্থলে না পৌঁছলে সর্বপ্রথম যে কথাটি মনে দোলা দেয় তা হলো দুর্ঘটনা পড়ে নি তো ? তাই ব্যাকুল হয়ে খোঁজ নিতে হয় হাসপাতালে বা থানায়।

দুর্ঘটনার কারণ

সড়ক দুর্ঘটনা
সড়ক দুর্ঘটনা

 সড়ক দুর্ঘটনা বিভিন্ন কারণে হতে পারে।  দেশের উন্নত সড়ক ব্যবস্থা, সড়ক চলাচলের অজ্ঞতা ও দক্ষ চালকের যানবাহন চালনা এবং মানুষের জীবনের মূল্য সম্পর্কে উদাসীনতা প্রভৃতি। তাছাড়া মানুষের নির্বিকার চলাফেরা ও সাবধানতা পুষ্পা ছেড়ে রাস্তার মাঝ দিয়ে চলা ট্রাফিক সিগন্যাল মান্য  না করা প্রভৃতি সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রাস্তার পরিমাণ ৪৫ হাজার কিলোমিটার। তার মধ্যে পাকা সড়ক দশ হাজার কিলোমিটার এবং বাকি রাস্তা আধাপাকা ও গ্রাম্য কাঁচা রাস্তা। দেশের প্রয়োজনে তুলনায় আমাদের সড়ক ব্যবস্থা খুবই নগণ্য।  তাছাড়া যেটুকু পাকা রাস্তা আছে তাও আবার যানবাহনের জন্য উপযোগী নয়।  কারণ উন্নত দেশে যে সমস্ত রাস্তা আছে তার দ্বিমুখী। কিন্তু আমাদের বেশিরভাগই রাস্তায় একমুখী।  মাঝে মাঝে এই রাস্তার মাঝখানে ডিভাইডার ব্যবহার করে দিমুখী করা হয়েছে। কিন্তু অনেক সময় চলে না মেনে ওভারটে করতে থাকলে বিপরীতমুখী যানবাহনের সাথে দুর্ঘটনা ঘটায়।  তাছাড়া অনেক সময় ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের কারণেও সড়ক দুর্ঘটনা হয়ে থাকে। কখনো কখনো ড্রাইভারের বদলে গাড়ি হেলপারগনে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়।  ট্রাক চালকের অপরিণাম ধর্ষিতা ও অজ্ঞতার কারণে ট্রাক চালানো রীতিমতো ভয়াবহ।  তাই ট্রাক চালকদেরকে বলা হয় ঘাতক চালক এবং ট্রাকে বলা হয় যন্ত্র দানব।  কারণ এ পর্যন্ত সব দুর্ঘটনায় যে সমস্ত মানুষ মরা গেছে তার বেশিরভাগই ট্রাক দুর্ঘটনার কারণে। তদুপরি ট্রাক চালকেরা বেশিরভাগই  মদ্যপায়ী। মদ খেয়ে বেপুরাভাবে ট্রাক চালনায় তারা আনন্দ ভুত করে।  ফলে অকালে প্রাণ দিতে হয় নির্ভর জনগণকে।

 প্রতিকার

বর্তমান সড়ক দুর্ঘটনা একটি জাতীয় সমস্যা দেশের সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন এবং জাতীয় সমঝোতার ভিত্তিতে এর প্রতিকার হওয়া উচিত। শুধু আইন প্রণয়ন করে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করে এ সমস্যার সমাধান হবে না। আইন কে কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং জনগণ ও সরকারের সমবেত প্রচেষ্টাতেও এই সমস্যার  নিরসন সম্ভব।

জনগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য

সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে জনগণকে বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ পদক্ষেপে এগিয়ে আসতে হবে দেশের ছাত্র যুব সমাজকে। তারা তাদের মনুষিলতার মাধ্যমে পাড়ায় পাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।  তারা পাড়ায় পাড়ায় বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা সম্বন্ধে বিশেষ জ্ঞান প্রসারিত করতে পারি এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্কুল কলেজের সামনে গতিরোধকতৈরি করতে পারে। তাছাড়া ছাত্র যুবসমাজ এবং জনগণ সমষ্টিগত প্রচেষ্টায় সড়ক দুর্ঘটনার উপর পাড়ায় পাড়ায় ডকুমেন্টারি ফিল্ম দেখাতে পারে যাতে দরিদ্র ও শিক্ষিত জনগণ সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারে।

 সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য

বর্তমান আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলার জন্য প্রতিবছর ট্রাফিক সপ্তাহ পালিত হয়।  সময় যদি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের দিকে সড়ক দুর্ঘটনা এড়াবার উপায় সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়, তবে সড়ক দুর্ঘটনার কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তারপরেও হাইওয়েতে মাঝে মাঝে পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণ করে গাড়িচালকদের বেপরোয়া যানবাহন চালনা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যানবাহন চালানোর প্রতিযোগিতা। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চালানো বন্ধ করতে হবে।  ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে করাকরি ব্যবস্থা  আরোপ করতে হবে। ট্রাফিক আইন আরো জোরদার করতে হবে।  হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।  জেব্রা ক্রসিং এর উপর দিয়ে সাবধানে রাস্তা পারাপার হতে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে।  বড় বড় শহরগুলোতে ওভার ব্রিজ তৈরি করতে হবে। শহরে ফুটপাত গুলো গ্রিল দিয়ে গিরে দেওয়া যেতে পারে যাতে পথচারী ফুটপাত ছেড়ে প্রধান রাস্তায় যেতে না পারে।  সমপরি পথচারীদের পথ চলার নিয়ম সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে গণমাধ্যম, টিভি ও বেতারের ব্যাপক প্রচারাভিযান চালাতে হবে। অপ্রশস্ত রাস্তা গুলো প্রশস্ত করতে হবে এবং কোন চালক যাতে তার বাহনের অতিরিক্ত যাত্রী বা মাল বহন না করে সেদিকে প্রশাসনিক করাকরি ব্যবস্থা নিলে সড়ক দুর্ঘটনা বহুল অংশের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

 

আমাদের দেশে বুর না হতেই প্রতিদিন সংবাদ পত্রের মধ্যে প্রথম পাতায় হেডলাইন আসে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অকাল মৃত্যু।  কোথাও বাসে বাসে সংঘর্ষ, কোথাও কোথাও বাসে ট্রাকে, কোথাও টেম্পুর সাথে বাসের সংঘর্ষ। কোথাও বা ট্রেন বকচিত হয়ে ছিনিয়ে নিয়েছে নিষ্পাপ অগণিত মানুষের প্রাণ।  পথের আনাচে-কানাচে মৃত্যু যেন ওত পেতে আছে। সুযোগ পেলেই চিনে নিবে মানুষের জীবন।  সুতরাং ভয়াবহ এসব দুর্ঘটনা রোধকল্পে জনগণকে সরকারের সঙ্গে সঙ্ঘবদ্ধ হতে হবে। সরকার ও জনগণ উভয়ের সচেতন ও তার মাধ্যমেই এই নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ অপরাধের একমাত্র প্রতিকার সম্ভব।  আমাদের দেশের একজন চিত্রনায়ক সড়ক দুর্ঘটনার প্রতি উৎকল্পে নিরাপদ ‘সড়ক চাই’ এর স্লোগান নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। আমরাও যদি তার সাথে একত্রিত হয়ে জোরালো বক্তব্য রাখি ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ তবেই ওদের ভবিষ্যতে আমাদের দেশে এ সমস্যা কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করা যায়। 

বেকার সমস্যা ও তার সমাধান

Leave a Comment