বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান
বৃক্ষরোপণ অভিযান

বিশ্ব প্রকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে বৃক্ষ।  শুধুমাত্র প্রাকৃতিক শুভ বন্ধনী নয় মানুষের জীবনের অত্যাবশ্যকীয় মল্লিক চাহিদা মিটানোর উৎসাহ হিসেবে বৃক্ষ মানব জীবনের সাথে একাকার হয়ে মিশে আছে। গাছপালা সুশোভিত অরণ্যের শ্যামল স্নিগ্ধ সৌন্দর্যের পটভূমিতেই উন্মেষ ঘটেছিল মানুষের আদিম সভ্যতার।  একেবারেই প্রাকৃতিক নির্ভর ছিল আদিম সমাজের মানুষ। প্রকৃতির অপরিসীমদানে নির্বাহ হতো আদি মানুষের জীবন।  আদিম মানুষের আরণ্যক জীবনের আজ অবসান ঘটেছে।  নগর সভ্যতার পতন হয়েছে পৃথিবীতে।  মানুষের হাত দিয়ে অরণ্য এবং সৃষ্টি হয়েছে নগর, বন্ধর ও শহর। কিন্তু এতদ সত্বেও বৃক্ষ ছাড়া জীবন অচল ও অসার। সেজন্যই রবীন্দ্রনাথ বলেছেন-

‘’ হে নব সভ্যতা হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী

 দাও ফিরে তপবন পূণ্য ছায়া রাশি।’’

বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা 

বৃক্ষ মানব জীবনের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।  বৃক্ষ-প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং পরিবেশ দূষণ থেকে আমাদের কি রক্ষা করে। বৃক্ষ মানুষকে খাদ্য দিয়ে, পুষ্টিযোগায়, গৃহ ও অন্যান্য নির্মাণ কাজে কাঠের যোগান দেয়। শিল্পে কাঁচামাল সরবরাহ করে বৃক্ষ আধুনিক নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটাচ্ছে।  কবিরাজি, হে কিমি ও হোমিওপ্যাথিক নানা প্রকার ঔষধ তৈরিতে বৃক্ষের প্রয়োজন। বস্ত্র তৈরির জন্য বৃক্ষ শুধু তুলাই দেনা, বরং দেয় রেশন,রেয়ন প্রভৃতি উপাদান।  গাছপালা খাদ্য তৈরীর সময় চালক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পরিবেশ অতি কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে এবং উপজাতি হিসেবে অক্সিজেন ত্যাগ করে। সমগ্র মানব কুল বায়ুমন্ডল হতে অক্সিজেন গ্রহণ করে।  ওদের যদি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া অক্সিজেন ত্যাগ না করতো তবে বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যেত এবং প্রাণীকুল ধ্বংসের মুখে পতিত হতো।  সুতরাং প্রাণীর স্বাভাবিক শ্বাসকার্যের সহায়তা করে তার অস্তিত্ব বজায় রাখতে বৃক্ষের প্রভাব ও পরিসীম। 

বিকো তাই দেশের একটি মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ।  এ সম্পদে রক্ষণাবেক্ষণ অসমৃদ্ধির আনয়ন করা জাতির প্রতিটি মানুষের অবশ্য কর্তব্য।  বনভূমি উজাড় জাতীয় জীবনে মারাত্মক অর্থনৈতিক বিভ্রান্ত ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখে আনতে পারে। সুতরাং জাতীয় জীবনে বৃক্কের এই গুরুত্ব বিবেচনা করেই বৃক্ষ সম্পদ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ সরকার বিকল্প অভিযান কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।

 বিকল্প অভিযানের উদ্দেশ্য

বৃক্ষরোপণ অভিযান
বৃক্ষরোপণ অভিযান

. বৃক্ষরোপণ অভিযানের উদ্দেশ্য ও ব্যবহার্য প্রতি জমির সদ্ব্যবহার কৃত্রিম বনাঞ্চল সৃষ্টি স্থায়ী বনভূমিতে অপরিকল্পিতভাবে বৃক্ষ নিধনজনিত কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা হ্রাস, অধিকসংখ্যক বৃক্ষ রোপন করে দেশের গণসম্পদ বৃদ্ধি এবং কাগজ, কা রং গালা, মোম ইত্যাদি শিল্পের কাঁচামালের অভাব নিরসন ইত্যাদি। 

বৃক্ষরোপণ অভিযানে সরকারি প্রচেষ্টা

 এ কর্মসূচি সাফল্য লাভের জন্য ইতিমধ্যেই সরকার বিভিন্ন বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।  রাস্তার উভয় পাশে, বিস্তৃত পতীত জমিতে, বাস গৃহে আশেপাশে, অফিস আদালত ,স্কুল কলেজ অথবা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গনে বৃক্ষ রোপনের জন্য সরকার বিভিন্ন কৃষি অফিসের মাধ্যমে বিনামূল্যে অথবা স্বল্পমূল্যে মূল্যবান কার্ড উন্নত ফলাদি ছাড়া জনসাধারণের মধ্যে বিতরণ করেছেন। বিকরোপণ অভিযানের সফলতার জন্য সরকার নানা বিট প্রচেষ্টা ও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।  প্রতিটি উপজেলা ইউনিয়ন ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে অভিযানকে সফল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 বিজ্ঞাপন অভিযান সফল করার উপায়

বৃক্ষরোপণ অভিযান
বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে হলে সরকারের পাশাপাশি জনগণ কেউ এগিয়ে আসতে হবে।  গাছ লাগানোর জন্য জন্ম নিয়ে চেতনা সৃষ্টি করতে হবে। সরকারে তরফ থেকে ছাড়া উৎপাদন করে বিনামূল্যে জনগণের মাঝে বিতরণ করতে হবে।  দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিক এ ব্যাপারে এগিয়ে আসলে এ অভিযান সফল ও সার্থক হবে।  বাংলাদেশের প্রতি বছর জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে পালিত হয়  বৃক্ষ রোপণ সপ্তাহ। কোন কোন বছর এক পক্ষকাল ধরে এ অভিযান চালানো হয়। এ সমস্ত সেমিনার আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অধিক গাছ লাগানোর চেতনা গড়ে তোলার ওপর জোরে দেওয়া হয়।  এ ছাড়া উদ্যান উন্নয়ন বোর্ড সারা বছর ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করে থাকেন।  সরকারি প্রক্রিয়া চলতে থাকলে জনমনে প্রেরণার সৃষ্টি হবে এবং বৃক্ষরোপণ অভিযানের সফল হবে। আমাদের দেশে বৃক্ষরোপণ অভিযানের হাল আমলে শুরু হলেও এ ধরনের উদ্যোগ আয়োজন অনেক আগেই দেশে করেছিল রবীন্দ্রনাথ। উৎসবের ভিতর দিয়ে তিনি বোন উৎসব পালন করতেন।  রবীন্দ্রনাথের পদাঙ্ক অনুসরণ করি আমাদের দেশের বর্তমান কবি ও সাহিত্যিকগণ যদি লেখালেখি বা জীবন আচরণের মধ্যে এ সত্যকে তুলে ধরেন তাহলে বৃক্ষরোপণ অভিযান সফল হতে পারে।

বাংলাদেশের আয়তন ৫৫,৫৯৮ বর্গমাইল। এদেশের  বনভূমির পরিমাণ ৮,৫৯৪ বর্গমাইল। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে এর পরিমাণ যত প্রযুক্ত নয়।  গাছপালা কমে যাওয়ায় পরিবেশ হচ্ছে দূষণ। স্মরণীয় তরঙ্গ শালার বাংলাদেশ হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট।  বৃষ্টিপাত যাচ্ছে কমে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপনের বিকল্প নেই।  বৃক্ষরোপণ অভিযান দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য সময়োপযোগী পদক্ষেপ।  অর্থনীতি ক্ষেত্রে বিপর্যয় রোধ করতে হলে দেশে অধিক সংখ্যক বিজ্ঞাপন করতে হবে। একমাত্র বৃক্কের সংখ্যার বৃদ্ধির মাধ্যমেই দেশের মোট ভূ-ভাগের একটি অংশকে বনভূমিতে পরিণত করে বর্ণ-সম্পদে দেশকে সমৃদ্ধ করা তথা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব। সুতরাং দেশ ও জাতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সমবেত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিজ্ঞাপন অভিযানকে সফল করে তুলতে হবে।

পেনিসিলিন আবিষ্কার

Leave a Comment