বাংলা ভাষার ব্যবহার

বাংলা ভাষার ব্যবহার

বাংলা ভাষার ব্যবহার
বাংলা ভাষার ব্যবহার

প্রত্যেক জাতির নিজস্ব একটা বাসা আছে। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। আমাদের মায়ের ভাষা। শৈশবে এর ভাষায় আমাদের প্রথম বাক্য স্ফুর্ত হয়েছে। মাতৃভাষার ভাবধারার ভেতর দিয়েই মানুষের মানসিক উৎকর্ষ সাধিত হয়। এ ভাষায় লিখে, এ ভাষা পড়ে, এ ভাষায় কথা বলে আমরা আনন্দ লাভ করি। এমন আর অন্য কোন ভাষায় সম্ভব নয়। ফ্রান্স, জার্মান ও আমেরিকার মত দেশ তার নিজস্ব ভাষাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়। কবি বলেছেন-

 “নানান দেশের নানা ভাষা

 বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা ?’’

সত্যিই  তাই। বাংলা ভাষা আমাদের ঐতিহ্যের স্মারক চেতনার উদ্বোধক। সুতরাং মাতৃভাষা সকলের নিকট অপর সব ভাষা অপেক্ষা মধুরতর।, তাইতো আজ দেখা দিয়েছে সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার।

উপনিবেশিক ও পাকিস্তানি শাসনের ফল

বাংলা ভাষার ব্যবহার
বাংলা ভাষার ব্যবহার

প্রায় ১১ শ’ বছর আগে বাংলা ভাষায় জন্ম হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। ১৭৫২ সালে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। ব্রিটিশ অধীনতার গ্লানি বহন করতে হয় ২০০ বছর। দীর্ঘদিন বিদেশি শাসকদের অধীন থেকে বিদেশী ভাষার দাসত্ব করতে হয়। ১৯ শতকের গোড়ার দিকে বাংলা ভাষা স্কুলের পাঠ্যপুস্তক রচিত হয় এবং ১৯৪০ এর পর থেকে বাংলা ভাষা স্কুল সমূহে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে চালু হয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ বিতরিত হয় এবং ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা স্বাধীনতা অর্জন করে দুটি দেশ। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা অর্জিত হয় ঠিকই কিন্তু বাংলাদেশ পরাধীন থেকে যায়। পাকিস্তানের একটি প্রদেশ পূর্ব পাকিস্তান নাম ধারণ করে সৃষ্টি হয় পাকিস্তানের একটি কলোনি। 

তাই পাকিস্তানিরা এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠের উপর উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা রূপে চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়াস হয়েছিল। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর সহ নাম না জানা ও গণিত ছাত্র রক্ত দিয়ে মুখের ভাষা কি অভিষিক্ত করলেন। আজ আমরা স্বাধীন।  বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা রূপে মাঝরা দিতে সর্বস্তরে এর ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে বাধা কোথায়?

সবারগ্রে মাতৃভাষার শিক্ষা

বাংলা ভাষার ব্যবহার
বাংলা ভাষার ব্যবহার

 শৈশবের মাতৃকুল থেকে যে বাসার সর্বপ্রথম মানব শিশু কথা বলে সে বাসার বর্ণের সাথে পরিচিত হওয়া সর্বাগ্রে প্রয়োজন। মাতৃভাষার ব্যতিরেকে জ্ঞান চর্চা অনেকটা দায়ে পড়া শিখার ব্যাপার। তাই সহজে কোন কিছু আয়ত্ত করা যায় না। সেই ভাষাকে বৃদ্ধি করে তাদের মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষায় অগ্রসর হতে হবে। বিদেশি ইংরেজি ভাষার ভয়ে এদেশের হাজার হাজার ছাত্রের জ্ঞান অর্জন সূচনাতেই পরিসমতি টানতে হয়েছে।আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে বিদেশী দুর্বুদ্ধ ভাষা। মাতৃভাষা ছাড়া যদি অন্য কোন ভাষায় কেউ বিদ্যা শিক্ষা করতে যত্নবান হয় তাহলে তার বিদ্যা শিক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইংরেজি ভাষা চর্চা করে সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে উত্তোলন করতে পারেনি। বাংলা ভাষাকে উদ্দেশ্য করে তিনি তাই লিখেছেন- ‘’হে ভঙ্গ ভান্ডারে তত বিবিধ রতন তা সবে অবহেলা করি পরধন লোভে যত করিনু ভ্রমণ পরদেশে ভিক্ষা বৃদ্ধি কুক্ষণে আচরি।’’

বর্তমানে শিক্ষা অবস্থা ও বাংলা ভাষার অবস্থান

 আমাদের বাংলাদেশে মাতৃভাষা বাংলায় একমাত্র রাষ্ট্রভাষা এবং শিক্ষার সর্বস্তরে স্বীকৃত মাধ্যম কিন্তু আমাদের উচ্চশিক্ষায়তন গুলোর দিকে তাকালে দেখতে পাই, ইংরেজির প্রতি মোহ আমাদের আজও কমেনি। এখনো শিক্ষার সর্বস্তরের ইংরেজি ভাষা চালু আছে। আজও অফিস আদালতে ইংরেজি ভাষার আধিপত্য দেখা যায়। সরকার ইতিমধ্যে অফিস আদালতে বাংলা ভাষার চালুর নির্দেশ দিয়েছেন।

মাতৃভাষার প্রতি অবহেলা

 আজকাল অনেক অভিভাবক ওই নিজেকে ছেলেমেয়েদের কে ইংরেজি মাধ্যমে বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে পারলে গর্ববোধ করেন। তারা গর্ববোধ করে এ বলে যে, বাংলায় পত্র লেখা সম্ভব নয়। এ ভাষায় সহজে মনের ভাব প্রকাশ করা যায় না।  কিন্তু অনেক মনীষী ইংরেজি ভাষায় সু পন্ডিত হয়েও বিদেশি ভাষার মাধ্যমে শিক্ষাদান ব্যবহার ও ব্যর্থতা উপলব্ধি করেছিলেন।

সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন এর প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ

বাংলা ভাষার ব্যবহার
বাংলা ভাষার ব্যবহার

 সর্বস্তরের বাংলা ভাষা প্রচলনের এসব প্রতিবন্ধকতা অবশ্যই দূর করতে হবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা হলো বাংলা ভাষা এদেশে প্রায় সব লোকেরই বাংলা মাতৃভাষা আজ শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলা ভাষা স্বীকৃতি পেয়েছে । উচ্চশিক্ষার কিছু ক্ষেত্রে এবং প্রকৌশল, চিকিৎসা প্রকৃতি শিক্ষার ক্ষেত্রে এখনো বাংলার প্রচলন হয়নি। এসব ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  যদি সবখানে শিক্ষা দীক্ষায় বাংলা ভাষা গৃহীত হয় তবে বাংলা ভাষার প্রচলন সহজ ও ত্বরান্বিত হতে পারে।

বাংলা ভাষাকে জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে প্রচলন এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে আমাদের  গৌরব, আমাদের কল্যাণ। নিরর্থক ইংরেজি প্রবণতা এবং মাতৃভাষার প্রতি অবহেলা হীনমন্যতার পরিচয় দিয়ে থাকে।  অতএব বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে ব্যবহার করার জন্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ সম্পর্কে আজ মনীষী বৃন্দ একমত।  যাদের মনে দেশাত্মবোধ আছে তারা সকলেই মাতৃভাষা কি যযথোচিত সম্মান প্রদর্শন করবেন। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের জাতীয় জীবনের মৃত্যু অনিবার্য।

পিতা মাতার প্রতি কর্তব্য

Leave a Comment