পেনিসিলিন আবিষ্কার

পেনিসিলিন আবিষ্কার

পেনিসিলিন
পেনিসিলিন

বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞানের কল্যাণে মানুষের চিন্তার জগতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা প্রতিবন্ধকতা সবকিছু অতিক্রম করে নতুন নতুন আশ্চর্যজনক আবিষ্কারের আধুনিক বিজ্ঞানীরা কৃতিত্ব দেখাচ্ছেন। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সাথে সংগ্রাম করে প্রাকৃতিক রহস্য উদঘাটন করেছেন। তারা তাদের সাধনা গবেষণা ও নিত্যনতুন আবিষ্কার ও কল্পনীয় দ্রুত গতিতে পৃথিবীর চেহারা বদলে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীর অগ্রগতি ও সহযোগে চিকিৎসা বিজ্ঞানেও এসেছে অসম্ভব রকমের পরিবর্তন।  অন্যান্য আবিষ্কারের মতই পেনিসিলিন আবিষ্কার বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর ঘটনা।

 পেনিসিলিনের আবিষ্কারক

পেনিসিলিন
পেনিসিলিন

ফেরি সেদিনের আবিষ্কারক আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে ৬ আগস্ট তারিখে স্কটল্যান্ডের জন্মগ্রহণ করেন।  তার পিতার নাম হিউ ফ্লেমিং। আলেকজান্ডার ফ্লেমিংরা ছিলেন ৮ ভাই বোন। তিনি ছিলেন সবার ছোট।  আর্থিক ও সচলতার জন্য প্রথম জীবনের তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু  অর্থ অভাব প্রতিভাকে আটকাতে পারে না। ফ্লেমিং তার কর্মনিষ্ঠা, সাহস ,আর আত্মবিশ্বাসের বলে শিক্ষার সুযোগ করে নিলেন। তিনি কাজ নিলেন জাহাজ কোম্পানিতে।  এর কিছু দিনের মধ্যেই পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে ফেলেন।  সুতরাং লেখাপড়া ও একটা সুযোগ এলো।  আবার শুরু হলো চিকিৎসা শাস্ত্র নিয়ে তার অধ্যাবসায়। ১৯০৫ সনে ২৫ বছর বয়সে তিনি চিকিৎসা বিদ্যায় ডিগ্রি নেন।  অতঃপর মিস্টার রাইটার নামক বিখ্যাত গবেষকের অধীনে তিনি গবেষণার কাজ শুরু করেন।

 পেনিসিলিন আবিষ্কার

পেনিসিলিন
পেনিসিলিন

মিস্টার ফ্লেমিং মিস্টার রাইটার এর অধীনে ব্যাকটেরিয়া নিয়ে গবেষণা করা শুরু করে।  আস্তে আস্তে তার সুনামু সুকৃতি বৃদ্ধি পেতে থাকে। কঠোর পরিশ্রম ও সাধনায় চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোড়ন সৃষ্টি করলেন তিনি।  দেহস্রাব নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। একদিন দেখলেন দেহস্রাব হলুদ রং ধারণ করছে। তিনি এর কারণ অনুসন্ধান করতে লাগলেন এবং বুঝতে পারলেন দেহ ছাড়াবে ব্যাকটেরিয়া আশ্রয় নিয়েছে। ফ্লেমিং তখন সর্দি-কাশিতে ভুগছিলেন। তিনি হলুদ রঙের দেবস্রাবে কিছু সর্দি ফেলে দিলেন।  কিছুক্ষণের মধ্যে দেখা গেল স্রাবের রং পরিবর্তন হয়ে গেছে। তিনি বুঝতে পেলেন সর্দি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করেছে। বিকড়ে ধ্বংসকারী এ উৎপাদনের নাম লাইসোজোম।  এমন এভাবে নিয়ে চলে তার নিরলস সাধনা। তখন ১৯২৮ সাল ব্যাকটেরিয়া নিয়ে মিস্টার ফ্লেমিং গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন সেন্ড মেরিজ হাসপাতালে। তিনি একদিন দেখলেন নীল রঙের একপ্রকার ছত্রাক তার ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তিনি আবিষ্কার করলেন এর নীল রঙের ছত্রাক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের ক্ষমতা রাখে।  ভিক্টোরিয়া ধ্বংসকারী এরূপ ছত্রাক দেখতে অনেকটা ব্রাসের মতো বলে ফ্লেমিং এর নাম দিলেন ফেনিসিলিয়াম অর্থাৎ ব্রাস। কিন্তু আতিক অনটন হেতু তার পক্ষে আর বেশিদূর গবেষণার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।  এর প্রতিগুলো অবস্থায় পরিশ্রমী মানুষটি থেমে গেলেন না।তিনি পেনিসিলিন প্রসঙ্গে একটি প্রবন্ধ লিখলেন। তার লেখা পড়ে 1937 সনে অক্সফোর্ডের দুই বিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ ডব্লিউ হোডে এবং মিস্টার উ বি চেইন গবেষণাগারে অল্প পরিমাণ পেনিসিলিন তৈরি করলেন। প্রথমে পশুর ওপরে মানুষের শরীরে এই পেনিসিলিন প্রয়োগ করে দেখলে ইহা দ্রুত কাজ করে। ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে বিশ্বের শত শত মানুষ কষ্ট পেতো, মারা যেত। পেনিসিলিন প্রয়োগের ফলে এরোগ্য ব্যাধি সহজে নির্মূল করা যায়।

পেনিসিলিন আবিষ্কার মানব সভ্যতার এক অতি মূল্যবান সংযোজন।  খাদ্যের পরেই মানুষের প্রয়োজন চিকিৎসার। পেনিসিলিন আবিষ্কারের মাধ্যমে পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হচ্ছে প্রত্যক্ষভাবে।  আক্রান্ত হলে মানুষের বাসার আশায় থাকত না অথচ আজ এসব রোগ অতি সাধারণ। প্রেমিকের মত একজন নিরলস ও কর্মনিষ্ঠা মানুষ তার সারা জীবনের সাধনায় যে আবিষ্কার পৃথিবীতে রেখে গেছেন তার প্রয়োজন কখনো শেষ হবার নয়। তাই ফ্লেমিং নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন পেনিসিলিন আবিষ্কারের জন্য। 

আধুনিক সভ্যতায় বিজ্ঞানের অবদান

Leave a Comment