আধুনিক সভ্যতায় বিজ্ঞানের অবদান

আধুনিক সভ্যতায় বিজ্ঞানের অবদান

আধুনিক সভ্যতায় বিজ্ঞানের অবদান
আধুনিক সভ্যতায় বিজ্ঞানের অবদান

ইতিহাস বলে মানুষ একদিন অরণ্যচারী ছিল। সেদিন বৃক্কের শাখায়, পর্বতের গুহায়, পশুর মত মানুষ বর্বর জীবন যাপন করত। আজ মানুষ হয়ে উঠেছে সুসভ্য। মনে প্রশ্ন জাগে কিসের শক্তিতে মানুষের অভূতপূর্ব পরিবর্তন করতে পারল। এর উত্তর হল বিজ্ঞানের শক্তিতে। বিজ্ঞানের সাহায্যে মানুষ জীবনের গ্লানি খাটিয়ে বর্তমান সভ্যতার যুগে উদ্দিন হয়েছে।

অগ্রযাত্রা

আধুনিক সভ্যতায় বিজ্ঞানের অবদান
আধুনিক সভ্যতায় বিজ্ঞানের অবদান

 বিজ্ঞানের এ জয়যাত্রা সূচনা হয় সেদিন যেদিন, মানুষ পাথরের উপর পাথর গোশতে ঘষতে সহসা আগুন উৎপাদন করল। বিজ্ঞান শব্দের অর্থ বিশেষ জ্ঞান।  মানুষের অদম্য কত হল ও অনুসন্ধিৎসা মানুষকে এ জ্ঞান অর্জনের সাহায্য করেছে। মানুষ এক এক প্রকৃতির অনেক রহস্যের মর্ম উদ্ধার করল।  আপন আপন শক্তি বৃদ্ধি করল। গুহাবাসী বর্বর মানুষ রাষ্ট্র ও নগরের পত্তন করল।  মানুষ এভাবেই ক্রমে ক্রমে জলে, স্থলে, অন্তরীকে বিজয়কেতন উড়ালো।

অবদান

আধুনিক সভ্যতায় বিজ্ঞানের অবদান
আধুনিক সভ্যতায় বিজ্ঞানের অবদান

 এ যুগ বিজ্ঞানের যুগ।  বিজ্ঞান দুর কে করেছেন নিকট ও পরেকে করেছে আপন। বিজ্ঞান বর্তমানে আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রতভাবে মিশে আছে। আমাদের হাতের কাছেই এখন আমরা বিজ্ঞানকে পাই।  সকালের দাঁতের মাজন হতে শুরু করে চায়ের কাপ, সংবাদপত্র, খাতা, পেন্সিল, বইপত্র এসবই বিজ্ঞানের অবদান। বিজ্ঞানের আশীর্বাদে আজ আমাদের ঘরে বিজলি পাকা চলে, বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলে, টেলিভিশন খেলা দেখি। বর্তমান সভ্যতা সর্বত্রই বিজ্ঞানের অবিভক্তি।  চারদিকে শুধু বিজ্ঞানের এই বিজয়বার্তা ঘোষিত হচ্ছে।  বিজ্ঞানের সাহায্যে মানুষ প্রকৃতিকে করেছে বশীভূত।  সমগ্র পৃথিবীতে আর শুধু বিজ্ঞানের রাজত্ব চলছে।

 আধুনিক বিজ্ঞান

আধুনিক সভ্যতায় বিজ্ঞানের অবদান
আধুনিক সভ্যতায় বিজ্ঞানের অবদান

সভ্যতার ক্রমবিকাশের পথে অগ্রসর হয়ে বিজ্ঞান বর্তমানে পূর্ণরূপে সমৃদ্ধি লাভ করেছে।  উনি ৩০০ শতকের গোড়ার দিকে বিজ্ঞান নতুন শক্তি নিয়ে অবতীর্ণ হয়। বিজ্ঞান শিল্প জগতে নতুন আলোড়নের সৃষ্টি করে।  দ্রুত উৎপাদনের তাগিদে নতুন নতুন যন্ত্র আবিষ্কারের হিড়িক পড়ে যায়। বিজ্ঞানের অসীম শক্তিতে মানুষ প্রকৃতিকে যেন হাতের মুঠোর মধ্যে এনে ফেলেছে।  যুগ যুগান্তরের স্বপ্ন ও সাধনা দিয়ে মানুষ আয়ত্ত করেছে বিজ্ঞানের উপর প্রভুত্ব। মানুষের মনে আজ আদিম যুগের সেই অসহায়তার ভাব টুকু নেই। বিজ্ঞান মানুষের দুর্বলতা ও অসহায়তার দূর করতে হয়েছে।  বর্তমানে বিজ্ঞান মানব কল্যাণে নিয়োজিত হয়েছে এবং এর জয়যাত্রা অব্যাহতভাবে চলছে।

 বিজ্ঞানের আবিষ্কার

আধুনিক বিজ্ঞান এসময় ও দূরত্বকে জয় করেছে। জেমস ওয়ার্ড স্টিম ইঞ্জিন ও জোস স্টিফেন্স সন রেলগাড়ি আবিষ্কার করলেন। মাইকেল ফ্যারাডে বিদ্যুৎ আবিষ্কার করলেন টমাস এডিশন বিদ্যুৎ কে কাজে ব্যবহার করলেন। জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদানের স্বাক্ষর সুস্পষ্ট।  সামান্য বলপেন থেকে শুরু করে বর্তমানে বিস্ময়কর কম্পিউটার, সামান্য ছুরি থেকে শুরু করে পারমাণবিক বোমা, ঠেলাগাড়ি থেকে শুরু করে কনকড বিমান, মাথা ব্যাথার বড়ি থেকে শুরু করে হৃদপিন্ডের বাইপাস সার্জারি ইত্যাদি সবকিছুই বিজ্ঞানের অবদান হিসেবে মানব জীবনকে সাফল্যের দিকে পরিচালিত করছে। বিজ্ঞান মানব জীবনে এনেছে সমৃদ্ধি।  বৈদ্যুতিক আলোয় এখন সবদিকে উদ্ভাসিত।  যানবাহনের আবিষ্কারের ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী। মুদ্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন মানুষকে জ্ঞানের সমৃদ্ধ করেছে।  উপগ্রহের যোগাযোগের ফলে পৃথিবীর মানুষ আজ কাছাকাছি এসেছে।  বর্তমানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে অল্প সময়ে ততো আদান-প্রদান করা সম্ভব হয়েছে।

 দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান

আধুনিক সভ্যতায় বিজ্ঞানের অবদান
আধুনিক সভ্যতায় বিজ্ঞানের অবদান

সকালের শয্যা থেকে রাতের শয্যা গ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ে প্রতিটি কাজের উপকরণ এসেছে বিজ্ঞান থেকে।  মানুষের আর এর সুখ সুবিধা, আনন্দ বিনোদন সবই বিজ্ঞানের দান। রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র, বৈদ্যুতিক বাতি ও পাখা, টেলিফোন, টেলিগ্রাফ, বৈদ্যুতিক ও বৈদ্যুতিক হিটার, রেফ্রিজারেটর ইত্যাদি আবিষ্কারের ফলে আমাদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত সমস্ত আরামদায়ক হয়ে উঠেছে। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে হাজার প্রয়োজনে বিজ্ঞানের আবিষ্কার যে বৈচিত্র পূর্ণ অবদান রাখছি তার সঠিক পরিমাপ করা সম্ভব নয়।

 চিকিৎসা বিজ্ঞান

চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিস্ময়কর অবদানের মাধ্যমে মানুষের আয়ু দিয়েছে বাড়িয়ে।  অধ্যাপক রঞ্জন এর আবিষ্কৃত রঞ্জন রশ্মি, অধ্যাপক কুরি ও মাদাম কুরির আবিষ্কৃত রেডিয়াম বিজ্ঞান জগতে যুগান্তর এনেছে। রঞ্জন রশ্মি ও আলতাসনোগ্রাফির সহায়তায় শরীরের ও দৃশ্য বস্তু দৃশ্যমান হয়েছে।  রেডিয়াম ক্যান্সারের মতো ভয়ংকর ক্ষতের মারাত্মক বিষক্রিয়াকে অনেকাংশে প্রতিহত করেছে। পেনিসিলিন, ক্লোরোমাইসিন, ও ষ্টেপটুমাইসিন ইত্যাদি মহা ঔষধ আবিষ্কারের ফলে কোটি কোটি মানুষ নানা প্রকার থেকে রক্ষা পেয়েছে। দুরারোগ্য সংক্রামণ ব্যাধি বসন্তের জীবাণু ও নিবারণের জন্য যেন এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেন। এরূপে বিজ্ঞানের সহায়তায় মানুষ আজ মৃত্যুর সাথে লড়াই করতে সমর্থ হয়েছে।

 কৃষি ক্ষেত্রে বিজ্ঞান

কৃষি কাজে বিজ্ঞানের অবদান মানুষের জন্য সরবরাহ করছে বিপুল খাদ্য সম্ভার।  লাঙ্গলের পরিবর্তে আজ ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাক্টর।  জমির উর্বরতা জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে রাসায়নিক সার। প্রকৃতির দোয়ার উপর নির্ভরশীল না হয়ে গভীর ও গভীর নলকূপের সাহায্যে পানি সেচের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।  এমনকি গবেষণার মাধ্যমে উন্নত জাতের বীজও কৃষকদের সরবরাহ করা হচ্ছে।

 আণবিক শক্তির আবিষ্কার

আণবিক শক্তির আবিষ্কার বিজ্ঞানের আধুনিকতম গৌরব ও কৃতিত্ব।  পৃথিবীতে যে অদৃশ্য শক্তি লুকিয়ে রয়েছে আণবিক গবেষণার ভেতর দিয়ে বিজ্ঞানীরা উহাকে আবিষ্কার করেছেন। বিজ্ঞানীদের এই নব আবিষ্কার সত্যই বিস্ময়কর। এই আবিষ্কারের সহিত অ্যাস্ট্রন চ্যাডউইক, নীলস বোর, স্মাইথ ও অটোহান প্রমুখ বিজ্ঞানীদের নাম জড়িত। আণবিক শক্তিকে মঙ্গলের কাজে লাগাতে পারলে পৃথিবীর শস্য সম্পদ ও প্রাচুর যে একটি শান্তিপূর্ণ স্থানের পরিণত হবে।  আণবিক বা অ্যাটমিক রশ্মি নিয়ন্ত্রণের দ্বারা মানুষ বহু দুরারোগ্য ব্যাধি হতে রক্ষা পাবে বলে আশা করা যায়। আণবিক বোমার সংযত পরিচালনার দ্বারা বৈদ্যুতিক শক্তির সরবরাহ করা যাবে বলে বৈজ্ঞানিকগণ আশা পোষণ করেন।

শুধু প্রাত্যহিক জীবনে এই নয়, বৃহত্তর জীবনেও বিজ্ঞানের অবদান পরিলক্ষিত হয়। আজ জলের চলে লঞ্চ, জাহাজ ইত্যাদি জলযান,  স্থলে ট্রাক, বাস, ট্রেন ইত্যাদি স্থল যান এবং শূন্যে উড়োজাহাজ, রকেট ইত্যাদি আকাশযান বিজ্ঞানেরই সৃষ্টি। চিকিৎসা শাস্ত্রে বিজ্ঞানের অবদান অপরিসীম।  বিজ্ঞানের কল্যাণে সমস্ত পৃথিবী আজ আমাদের ঘরের দুয়ারে এসে পড়েছে। মানব কল্যাণে বিজ্ঞানের এই দানেই সর্বশ্রেষ্ঠ।  এ জন্য বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানের কাছে মানুষ চিরঋণী। বিজ্ঞানের দানেই মানুষ বিশ্বজয়ী হয়েছে। গুহাশ্রয়ী মানুষ হতে আরম্ভ করে আধুনিক যুগের হাল ফ্যাশনের মানুষ পর্যন্ত সকলেই বিজ্ঞানের কাছে ঋণী। বর্তমান সভ্যতার ক্রমোন্নতির ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান ও পরিসীম।

সড়ক দুর্ঘটনা

Leave a Comment